অবকাঠামো ও যোগাযোগ
- রেল করিডোর: পদ্মা–গোপালগঞ্জ (টুঙ্গিপাড়া)–চিতলমারী–কচুয়া–বাগেরহাট–মোংলা রেল করিডোর রেল করিডোর বাস্তবায়নের মাধ্যমে যোগাযোগ বিপ্লব ঘটানো।
- রাস্তাঘাট ও ড্রেনেজ: গ্রাম থেকে শহর—প্রতিটি সড়কের মানোন্নয়ন ও সংস্কার এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থাসহ একটি টেকসই যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা।
- বেড়িবাঁধ নির্মাণ: উপকূলীয় অঞ্চলের জানমাল রক্ষায় টেকসই ও স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং নদী ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ।
আধুনিক ও পরিকল্পিত নগরায়ন
- বিভাগীয় মানের আধুনিক শহর: বাগেরহাটকে বিভাগীয় পর্যায়ের সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত একটি 'আধুনিক জেলা শহর' হিসেবে রূপান্তর।
- Urban Expansion Master Plan: শহর সম্প্রসারণের মাধ্যমে নতুন শিল্পকারখানা ও সরকারি দপ্তর স্থাপন করে বাগেরহাটকে একটি অর্থনৈতিক হাব হিসেবে গড়ে তোলা।
- ক্রীড়া উন্নয়ন: তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে বাগেরহাটে একটি জাতীয় মানের আধুনিক স্টেডিয়াম নির্মাণ।
পরিচ্ছন্ন শহর ও টেকসই পরিবেশ
- বর্জ্য ব্যবস্থাপনা (Waste Management): শহরের নির্দিষ্ট সীমানার বাইরে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে 'ময়লার ভাগাড়' বা বর্জ্য ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপন। ডোর-টু-ডোর ময়লা সংগ্রহ পদ্ধতি শক্তিশালী করা।
- রিসাইক্লিং প্রজেক্ট: বর্জ্য থেকে জৈব সার ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব ও পরিচ্ছন্ন বাগেরহাট গড়ে তোলা।
স্মার্ট অবকাঠামো ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা
- তারবিহীন পৌরসভা (Underground Cabling): শহরের সৌন্দর্য বাড়াতে এবং ঝুঁকি কমাতে ঝুলে থাকা বৈদ্যুতিক ও ইন্টারনেট তার অপসারণ করে পর্যায়ক্রমে 'আন্ডারগ্রাউন্ড ক্যাবলিং' বা ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎ লাইন ব্যবস্থা প্রবর্তন।
- সোলার স্ট্রিট লাইটিং: পুরো শহর ও গ্রাম্য প্রধান সড়কগুলোতে পরিবেশবান্ধব সোলার স্ট্রিট লাইট স্থাপন।
কৃষি, মৎস্য ও শিল্প উন্নয়ন
- Agro-Marine Processing Zone: কচুয়া-মোল্লাহাট-ফকিরহাট করিডোরজুড়ে জাতীয় মানের কৃষি ও সামুদ্রিক পণ্য প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল গড়ে তোলা।
- সুপারি, নারিকেল ও চিংড়ি শিল্প: বাগেরহাটের ঐতিহ্যবাহী সুপারি, নারিকেল এবং চিংড়ি চাষিদের জন্য বিশেষ ভর্তুকি, আধুনিক প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র এবং সরাসরি রফতানির সুযোগ সৃষ্টি।
- গবেষণা কেন্দ্র: বাগেরহাট সদরে 'জাতীয় মৎস্য গবেষণা ও রফতানি কেন্দ্র' (National Fisheries Research & Export Center) স্থাপন।
সামাজিক নিরাপত্তা ও দারিদ্র্য বিমোচন
- দারিদ্র্যমুক্ত বাগেরহাট: কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহায়তা এবং বাগেরহাটের সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর (Social Safety Net) সুবিধায় আনা।
- নারীর ক্ষমতায়ন: নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ ও উপার্জনের সুবিধা নিশ্চিত করা।
- স্মার্ট বাগেরহাট সিকিউরিটি অ্যাপ: সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি বিশেষ মোবাইল অ্যাপ চালু করা। যার মাধ্যমে জরুরি সেবা (পুলিশ, অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস) এক ক্লিকেই পাওয়া যাবে।
- সিসিটিভি সার্ভেইল্যান্স: পুরো পৌরসভা ও গুরুত্বপূর্ণ জনপদকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় এনে অপরাধমুক্ত সমাজ গঠন।
পর্যটন ও সংস্কৃতি
- ঐতিহ্যবাহী পর্যটন অঞ্চল: ষাটগম্বুজ মসজিদ এবং খান জাহান আলী (র.)-এর মাজারকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কমপ্লেক্স নির্মাণ।
- ইকো-ট্যুরিজম: সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় পরিবেশবান্ধব পর্যটন সুবিধা বৃদ্ধি এবং পর্যটকদের জন্য আধুনিক রিসোর্ট ও বিনোদন কেন্দ্র স্থাপন।
- সাংস্কৃতিক কেন্দ্র: বাগেরহাটের লোকজ সংস্কৃতি রক্ষায় একটি আধুনিক সাংস্কৃতিক একাডেমি ও মিউজিয়াম প্রতিষ্ঠা।
আধুনিক যোগাযোগ ও গণপরিবহন
- ইন্টার-উপজেলা ও জেলা বাস সার্ভিস: বাগেরহাট সদর থেকে প্রতিটি উপজেলা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যাতায়াতের জন্য মানসম্মত ও আধুনিক 'পাবলিক বাস সিস্টেম' চালু করা। নারীদের ও শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য স্পেশাল সার্ভিস।
শিক্ষা ও উচ্চশিক্ষা
- মেডিকেল কলেজ: বাগেরহাটে একটি পূর্ণাঙ্গ আধুনিক সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন।
- বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়: উচ্চশিক্ষার প্রসারে বাগেরহাটে একটি স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় অথবা বিশেষায়িত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা।
- কারিগরি শিক্ষা: কচুয়ায় আন্তর্জাতিক মানের একটি কারিগরি ও ভোকেশনাল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, যা দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে ভূমিকা রাখবে।